৩৩৩

৩৩৩-এ আসে অবাঞ্ছিত কল, চাওয়া হয় ব্যক্তিগত ফোন নম্বর

৩৩৩-এ আসে অনেক অবাঞ্ছিত কল, চাওয়া হয় নারীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর। শুধু প্রয়োজনে নয়, অপ্রয়োজনেও অনেকে কল করছেন সরকারি তথ্য, সেবা এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিকারে সহায়তার হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে। অবাঞ্ছিত এসব কলের কারণে সেবা পেতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে আসল সেবাপ্রত্যাশীদের।

‘সরকারি তথ্য ও সেবা সব সময়’ স্লোগানে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের আওতায় চালু হয় জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বর। এই নম্বরে কল করে যেকোনো সরকারি সেবা প্রাপ্তির পদ্ধতি, বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা (বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং, মাদক, জুয়া, ভেজালদ্রব্য ইত্যাদি) সমাধানে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অভিযোগ, দুর্যোগ সম্পর্কে ও দুর্যোগকালীন সময়ে করণীয় সংক্রান্ত সেবা নেওয়া যায়।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ১৪ এপ্রিল থেকে জনসাধারণের কার্যাবলী ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। ২৫ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, কোনো মধ্যবিত্ত পরিবার যদি খাদ্য সংকটে থাকেন, তিনি ৩৩৩ নম্বরে কল দিলে তার বাসায় খাবার পৌঁছে যাবে। ওইদিন থেকেই ৩৩৩ নম্বরে খাদ্যসেবা আইভিআর কার্যকর করা হয়।

এটুআই প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত খাদ্য সহায়তার জন্য ৩৩৩ নম্বরে মোট ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪টি কল আসে। অধিক যাচাই-বাছাই করে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৭৫ জন সাহায্যপ্রার্থীর তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে।

এরমধ্যে গত ১ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত মোট সাত দিনে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৯টি কল আসে। এগুলোর মধ্যে ২০ হাজার ৬৬ জনের তালিকা উপজেলা ইউএনওদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এটুআই প্রকল্পের কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মিডিয়া আউচরিচ কনসালট্যান্ট আদনান ফয়সল বলেন, ‘অনেকে অপ্রয়োজনে ৩৩৩ নম্বরে কল দেয়। যা একেবারেই অপ্রত্যাশিত।’

তিনি বলেন, ‘কেউ-কেউ আছেন, ৩৩৩ এর মাধ্যমে আসলেই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় কি না, তা জানার জন্য কল দেন। কিন্তু আসলে তিনি সচ্ছল। তার সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবুও শুধুমাত্র টেস্ট করার জন্য কল দেন।’

‘আবার কেউ-কেউ কল দেন, শুধু বিরক্ত করার জন্য। বলেন, করোনাকালীন সময়ে বাসায় বসে আছি, সময় কাটছে না, তাই কথা বলার জন্য কল দিয়েছি। একপর্যায়ে কল সেন্টারের নারীর ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার চেয়ে বসেন।’

আদনান ফয়সল বলেন, ‘কল সেন্টারে নির্দিষ্ট পরিমাণ এজেন্ট রয়েছে। তাই এসব অবাঞ্ছিত কলের কারণে আসল সাহায্যপ্রার্থীদের অপেক্ষা করতে হয়। আমি অনুরোধ করছি, যাদের সহায়তার প্রয়োজন নেই, তারা দয়া করে অযথা যেন কল না দেয়।’

জানা গেছে, ২৫ এপ্রিল থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ইউএনওদের কাছে পাঠানো তালিকা থেকে ৬০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে জেলা পর্যায়ে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫৭ হাজার এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩ হাজার ২৭৪টি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাহায্যপ্রার্থীদের ৫০০ টাকা সমমূল্যের চাল, ডাল, লবণ, তেল ও আলু দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।