বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ

৫০ দেশে পাকিস্তান দূতাবাসে প্রবাসী পরিষদের স্মারকলিপি

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বিশ্বের ৫০টি দেশে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসে ইমেইল মারফত স্মারকলিপি দিয়েছে ‘বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ’।

সোমবার (২২ মার্চ) প্রবাসী অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. কবীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার পোদ্দার স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ইরান, ইরাক, ভারতসহ ৫০টি দেশে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসে পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটসহ সব অপকর্ম ও নির্যাতনের জন্য বাংলাদেশের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে প্রবাসী অধিকার পরিষদ বিশ্বের ৫০টি দেশে পাকিস্তানের দূতাবাসে স্মারকলিপি দিয়েছে। আমরা আশা করব, পাকিস্তানের বর্তমান সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে তাদের ভুল স্বীকার করে বাংলাদেশের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মধ্যেই পাকিস্তান সরকার এ কাজ করবে।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে করোনার কারণে দূতাবাস বন্ধ থাকায় বা সাধারণের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকায় স্মারকলিপি সরাসরি দেয়া যায়নি। পরে দূতাবাস থেকে ইমেইলের মাধ্যমে দিতে বলায় এ দাবির বিষয়টি সেভাবে দেয়া হয়েছে।

এর আগে রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত একটি বার্তা দেন। সেখানে তিনি বলেন, বিভিন্ন দূতাবাসে দেয়া স্মারকলিপিতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের নিরীহ-নিরস্ত্র জনগণের ওপর পাকিস্তানের নারকীয় হত্যা ও বর্বরতার কথা তুলে ধরে দেশটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ওই বার্তায় আরও বলা হয়, ইমরান খান ২০১১ সালে বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি মনে করেন ১৯৭১ সালের বর্বরতার ঘটনায় পাকিস্তানের বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এখন তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রবাসী অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বার্তায়।