তারা স্কট অ্যাটলাস

ট্রাম্পের করোনা উপদেষ্টার পদত্যাগ

বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে যেন পদত্যাগের হিড়িক পড়ে গেছে। একের পর এক কর্মকর্তা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন তার আরও এক উপদেষ্টা। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের করোনাভাইরাস বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

স্কট অ্যাটলাস ট্রাম্পের খুবই আস্থাভাজন ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই কর্মকর্তা নানান সময়ে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সমালোচনার স্বীকার হয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে মাস্ক পরা এবং অন্যান্য বিষয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করেছেন।

ফক্স নিউজ জানিয়েছে, তারা স্কট অ্যাটলাসের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ওই পদত্যাগপত্রে ডিসেম্বরের ১ তারিখ দেওয়া রয়েছে। ব্যক্তি জীবনে এই উপদেষ্টার বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয়, গণস্বাস্থ্য ও সংক্রামক রোগের বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত।

পদত্যাগপত্রে অ্যাটলাস লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ উপদেষ্টার পদ থেকে আমি সরে দাঁড়াচ্ছি। তাকে এই সম্মানে ভূষিত করায় তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে শুভ কামনা জানিয়েছেন।

অ্যাটলাস বলেন, আমি নির্দিষ্ট একটি জিনিসকে কেন্দ্র করে কঠোর পরিশ্রম করেছি। মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং এই মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে আমি কাজ করে গেছি। তিনি আরও বলেন, সব সময়ই তিনি বিজ্ঞানের সর্বশেষ তথ্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্ররোচনা বা প্রভাব ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিদায়ী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বেশি সময় ধরে কাজ করায় অ্যাটলাসকে নিয়ে বিতর্ক হচ্ছিল। দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে করোনার প্রকোপ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সমালোচনাও জোরালো হচ্ছিল।

বিজ্ঞানী এবং জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে তার অভিজ্ঞতার বিষয়ে বেশ বিতর্ক ছিল। তিনি যে দায়িত্ব পালন করছিলেন সেক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

এর আগে গত অক্টোবরে এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, মাস্ক কি আসলেই কাজ করে? মাস্ক পরার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ স্বত্ত্বেও এমন প্রশ্ন করেছেন তিনি। টুইটার তার এই টুইটকে ভুল তথ্য হিসেবে গ্রহণ করে সরিয়ে দিয়েছে।

এছাড়া রাশিয়ার সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিতে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেননি। যেভাবে দেশটিতে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে তা তিনি এড়িয়ে গেছেন।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৩৫ লাখ ২২ হাজার ২৪৭। অপরদিকে মারা গেছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৪ জন। এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।