খালেদা

লন্ডন নয়, দুবাই অথবা সিঙ্গাপুরে যাবেন খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর পর বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি লন্ডন না গিয়ে দুবাই অথবা সিঙ্গাপুরে যাবেন চিকিৎসা নিতে।

দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গণের আলোচিত বিষয় খালেদার চিকিৎসার জন্য বিদেশ সফর যাওয়া। পরিবারের সদস্যরা লন্ডনে থাকায় সবার ধারণা ছিলো তিনি লন্ডনে গিয়ে চিকিৎসা নিবেন। কিন্তু তারেকের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়নের কারণে লন্ডনে না গিয়ে ‍দুবাই অথবা সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালেদা জিয়া। ধারণা করা হচ্ছে এই সময়ে খালেদার সাথে থাকবেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী।

দুবাইয়ে চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার দুবাই হাসপাতালে যোগাযোগ করেছেন। একই সাথে তিনি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালেও যোগাযোগ করছেন। দুবাইতে যদি চিকিৎসা করানো সম্ভব না হয়, তাহলে খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা নিবেন বলে জানিয়েছেন খালেদার ঘনিষ্টজনেরা।

সূত্র মতে, বর্তমানে খালেদা জিয়া চার ধরণের শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রথম তার রক্তে চিনির পরিমাণ অত্যধিক বেশি। দ্বিতীয়ত বাতের সমস্যার কারণে তিনি ঠিকমত চলাফেরা করতে পারেন না। এমনকি গোসল ও প্রাকৃতিক কর্ম সম্পন্ন করার জন্য অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন হচ্ছে। তৃতীয়ত, খালেদা জিয়ার রক্তচাপ প্রতিনিয়ত উঠানামা করছে। চতুর্থ, খালেদা জিয়া নিউরো সমস্যায় ভুগছেন। এই সমস্যার কারণে খালেদা জিয়ার স্মৃতিশক্তি লোপ পাচ্ছে।

লন্ডনে চিকিৎসা নিতে না যাওয়ার বিষয়ে বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, সম্পদের ভাগবাটোয়ারা ও দলের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে খালেদা ও তারেক রহমানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়ন চলছে।

গত ২৪ অক্টোবরের পর থেকে তারেক জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন না বেগম খালেদা জিয়া। এমনকি তারেকের স্ত্রী জোবাইদা যিনি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যর খোঁজখবর নিতেন, তিনিও কথা বলছে না বেগম খালেদা জিয়ার সাথে। খালেদা জিয়ার আদরের নাতনী জাইমার সঙ্গেও কথোপকথন বন্ধ রয়েছে। কথা বলছেন শুধুমাত্র প্রয়াত কোকোর স্ত্রী সিঁথি।

তবে খালেদার চিকিৎসার জন্য বিদেশ সফরের আগে বিদেশের সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ডাক্তারের বিশেষ সুপারিশের প্রয়োজন হবে। সূত্র বলছে, বর্তমানে খালেদার চিকিৎসার জন্য নিয়োগ করা ডাক্তারদের প্যানেল তাকে দেখে সিদ্ধান্ত দেবেন তার বিদেশ যাওয়ার দরকার আছে কি না।

স্থানীয় চিবিৎসকদের সুপারিশ পাওয়ার পর দুবাই অথবা সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা অনলাইনে তার শারীরীক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তার বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সুপারিশ পত্র দেবেন।

এই সুপারিশ পত্রের উপর ভিত্তি করে, তাকে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। খালেদার বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে চানতে চাইলে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক জানান, চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া নিয়ে এখনো কোন ধরণের আবেদন তারা পাননি। পেলে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।