ফেসবুক মেসেঞ্জার

সরকারের সমালোচনা, ফেসবুক নিষিদ্ধ হচ্ছে সলোমন দ্বীপপুঞ্জে

ফেসবুক নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত দেশ সলোমন দ্বীপপুঞ্জ। সম্প্রতি জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমটিতে সরকারবিরোধী সমালোচনা জোরদার হওয়ার পর ফেসবুক নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। সলোমনের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী পিটার শ্যানেল অ্যাগোভাকা সাময়িকভাবে ফেসবুক বন্ধের একটি খসড়া পরিকল্পনা করা ছাড়াও তা কীভাবে কার্যকর করা যায় এ নিয়ে দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইএসপি) সঙ্গে আলোচনা করছেন।

দেশটির জাতীয় দৈনিক সলোমন টাইমসকে মন্ত্রী পিটার শ্যানেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী (মানাশেহ সোগাভারে) ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ এসব ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি ও তাদের মানহানির মতো উদ্বেগজনক বিষয়গুলো বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়ার কথা ভাবছে সরকার।’

তবে ফেসবুক বন্ধে সরকারের এমন পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী সোগাভারের কার্যালয় থেকে অবশ্য কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে দেশটির বিরোধী নেতা ম্যাথিউ ওয়ালে বলছেন, এটা দেশের নাগরিকদের মত প্রকাশের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে বেআইনি সেন্সরশিপ ব্যবস্থা আরোপের মতো বেআইনি বিষয়টি তুলে ধরেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো, বিশেষ করে মূলধারার ও সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ফেসবুককে মুক্তভাবে মত প্রকাশের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করেন নাগরিকরা। তাই এই সময়ে এসে ফেসবুক কিংবা অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার সরকারের নেই।’

দ্বীপরাষ্ট্র সলোমন দ্বীপপুঞ্জের ৭ লাখ মানুষের বেশিরভাগই ফেসবুক ব্যবহার করেন। নানা ধরেনর প্রতিবন্ধকতা থাকায় সেখানকার মানুষের জন্য যোগাযোগের অন্য মাধ্যমগুলো ব্যবহার করা বেশ কষ্টসাধ্য। নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

সলোমনের সরকারের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, বৈষম্য, বেকারত্বের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তাই দেশটির মানুষ বিশেষ করে শহুরে তরুণেরা ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভই বিস্ফোরিত হয়ে গত বছর দাঙ্গার রূপ নিয়েছিল। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন শান্তিরক্ষী বাহিনী সলোমন ত্যাগ করার পর অস্থিরতা আরও বেড়েছে।