আদমজী বন্ধের ১৮ বছর

আদমজী বন্ধের ১৮ বছর

এশিয়ার বৃহত্তম জুটমিল আদমজী বন্ধের ১৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। অব্যাহত লোকসানের কারণে প্রতিষ্ঠার ৫২ বছর পর ২০০২ সালের ৩০ জুন বন্ধ করে দেওয়া হয় এই মিল। পরে মিলের ২৪৫ দশমিক ১২ একর জায়গায় গড়ে তোলা হয় আদমজী ইপিজেড। এ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ৪৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এখানে।

জানা গেছে, আদমজী ইপিজেড চালু হওয়ার পর প্রথম অর্থবছরে বিনিয়োগ হয়েছিল মাত্র ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়েছে। বেপজার তথ্যানুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আদমজী ইপিজেডে বিনিয়োগ হয়েছে ৫২১ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে চার হাজার ৪৮৩ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। কর্মসংস্থান হয়েছে ৬২ হাজার ২০০ জনের।

১৯৫০ সালে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে আদমজী পরিবারের তিন ভাই ওয়াহেদ আদমজী, জাকারিয়া আদমজী ও গুল মোহাম্মদ আদমজী মিলে সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যার তীরে ২৯৪ দশমিক ৮৮ একর জমিতে আদমজী জুটমিলস নির্মাণ করেন। পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগে ১৭০০ হেসিয়ান ও ১০০০ সেকিং লুম নিয়ে এই মিলের উৎপাদন শুরু হয়েছিল ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর।

স্বাধীনতাযুদ্ধের কয়েক বছর পর শ্রমিক আন্দোলনের নামে একাধিক গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়ায়। অনেকের প্রাণহানি ঘটে। লোকসানে পড়ে মিল। এক হাজার ২০০ কোটি টাকা লোকসান দেখিয়ে তত্কালীন বিএনপি সরকার মিলটি বন্ধ ঘোষণা করে। বন্ধের সময় সেখানে ২৪ হাজার ৯১৬ জন কর্মরত ছিলেন। পরে তাঁদের সব পাওনা পরিশোধ করে দেওয়া হয়।