কামাল লোহানী

কামাল লোহানী আর নেই

করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক কামাল লোহানী মারা গেছেন। শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কামাল লোহানীর পরিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৭ বছর। তিনি এক ছেলে, দুই মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

কামাল লোহানীর কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে বলে গতকাল শুক্রবার জানান তাঁর মেয়ে ঊর্মি লোহানী । করোনায় আক্রান্ত কামাল লোহানী ফুসফুস ও কিডনির জটিলতা ছাড়াও হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবেটিসের সমস্যাতেও ভুগছিলেন।

শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কামাল লোহানী।

কামাল লোহানী হিসেবে পরিচিত হলেও, তার পুরো নাম আবু নঈম মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান লোহানী। ১৯৩৪ সালের ২৬ জুন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার খান সনতলা গ্রামে তার জন্ম। বাবা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ মুসা খান লোহানী। মা রোকেয়া খান লোহানী।

কর্মজীবনে কামাল লোহানী দৈনিক মিল্লাত পত্রিকা দিয়ে সাংবাদিকতার শুরু করেন। এরপর আজাদ, সংবাদ, পূর্বদেশ, দৈনিক বার্তায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

দুইবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। ছিলেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি, ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি ২০১৫ সালে সাংবাদিকতায় একুশে পদক লাভ করেন।

কামাল লোহানীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশের সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তিনি নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। তিনি ছিলেন ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক। মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের বার্তা বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি।

দুই মেয়াদে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন কামাল লোহানী। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী, ছায়ানটসহ বিভিন্ন সংগঠনে। অবিভক্ত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব।