প্রভাবশালীরা পছন্দের লোকদের ত্রাণের জন্য তালিকাভুক্ত করছে

কভিড-১৯ বা নভেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে সরকারের ত্রাণ সহায়তায় অনিয়মের অভিযোগ এনেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ। দলটির অভিযোগ প্রভাবশালীরা পছন্দের লোকদের ত্রাণের জন্য তালিকাভুক্ত করছে। এ সমস্যা নিরসনের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক নয় সদস্যদের একটি ত্রাণ বিতরণের কমিটি করে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার শনিবার (১১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তাদের এ বক্তব্য তুলে ধরেন।

এতে তারা করোনাজনিত লকডাউন পরিস্থিতিতে দিন আনে দিন খায় মানুষসহ যারা কর্মহীন হয়ে খাদ্য সংকটে আছেন এমন ৭৫ লাখ পরিবার অর্থাৎ ৩ কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে স্বাগত জানান।

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বার বার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও খাদ্যত্রাণ সহায়তা প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়নে বহুক্ষেত্রেই সমন্বয়হীনতা-দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি-দলবাজী-দলীয়করণ করা হচ্ছে। যাদের খাদ্যত্রাণ দরকার নাই তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাদের নাম তালিকায় আছে তারা খাদ্যত্রাণ পায়নি। আবার কেউ কেউ একাধিকবার খাদ্যত্রাণ নিয়েছে। কেউ কেউ একবারও খাদ্যত্রাণ পায়নি। স্বজনপ্রীতি ও দলবাজী এমন জঘন্য পর্যায়ে পৌঁছেছে যে খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্য কর্মী নিরুপায় অসহায় প্রকৃত খাদ্যত্রাণপ্রার্থীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের ব্যক্তিগত পছন্দের লোকদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে যাদের খাদ্যত্রাণ দরকারই নাই। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭৫ লাখ পরিবারকে তালিকাভুক্ত করার কথা সেখানে এখন পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৭৫ হাজার পরিবারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এখনও ৪৫ লাখ ২৫ হাজার পরিবারের তালিকা তৈরিই হয়নি।

জাসদের নেতারা লকডাউন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ঘোষিত ৭৫ লাখ পরিবার অর্থাৎ ৩ কোটি মানুষকে খাদ্যসহায়তা প্রদানের কর্মসূচি সম্প্রসারিত করে আরও ৭৫ লাখ পরিবার অর্থাৎ আরও ৩ কোটি সর্বমোট ১ কোটি ৫০ লাখ পরিবার অর্থাৎ ৬ কোটি মানুষকে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

তারা বলেন, সুষ্ঠু ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের জন্য গ্রাম বা শহরে একটি ওয়ার্ডকে একটি ইউনিট ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে ইউএনও বা ডিসির একজন প্রতিনিধি হিসাবে ১ জন সরকারি কর্মকর্তা, ১ জন মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষক, ১ জন কলেজ শিক্ষক, ওই ওয়ার্ডে ববসবাসকারী ১ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী বা কর্মকর্তা, ১ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য, সরকারী কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ১ জন কর্মচারী, রেজিস্ট্রার্ড পল্লী চিকিৎসক ১ জন, ১ জন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকাকে সদস্য করে ত্রাণ কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটির তত্ত্বাবধানে গ্রাম পুলিশ, চৌকিদার, স্বেচ্ছাসেবী যুবক নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিমও গঠন করতে হবে। কারণ লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব রাখা কার্যকর রেখে জনসমাগম ও সংক্রমণ বিস্তারের ঝুঁকি এড়িয়ে খাদ্যত্রাণ বিতরণ করতে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে খাদ্যত্রাণ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি চালু করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, খাদ্যত্রাণ সহায়তাপ্রার্থীদের নাম, মোবাইল নম্বর, বিকাশ/নগদ/রকেট নম্বরসহ নির্ভুল ও সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। যেন প্রয়োজনে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার বদলে সমপরিমাণ টাকা তালিকভুক্ত মানুষদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও সরকার এগুতে পারে।