বঙ্গবন্ধু

‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পুরস্কার চালু করা উচিত’

‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের’ সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেছেন, ‘মুজিববর্ষে (জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ) এক মিলিয়ন ডলারের বঙ্গবন্ধু শান্তি পুরস্কার চালু করা উচিত। এটি হবে নোবেল পুরস্কারের সমমান। যাঁরা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদেরকে এ পুরস্কার দিতে হবে। আশা করি আগামী ১৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পুরস্কারের ঘোষণা দেবেন।’

গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সেমিনারকক্ষে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মুজিববর্ষে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নাগরিক আন্দোলনের অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন মুনতাসীর মামুন। তিনি বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাঈদীর ওয়াজ কেন এখনো চলবে? কেন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না? একজন দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীর বক্তব্য ওয়াজের নামে কিভাবে পাবলিকলি প্রচার হয়, এটি খতিয়ে দেখতে হবে।’

নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ফিরিয়ে আনতে ২৮ বছর নির্মূল কমিটি সংগ্রাম করেছে। কিন্তু এখনো সংবিধানে সাম্প্রদায়িক চিহ্ন রয়ে গেছে। সাফল্য নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি, কারণ অনেক যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে, চলছে। বঙ্গবন্ধুর বাহাত্তরের সংবিধানে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

কিন্তু আমাদের বর্তমান সংবিধানে এর বাস্তবায়ন নেই। ধর্মের নামে সহিংসতা, সংঘাত বাড়ছে। রাজনীতি থেকে ধর্মকে যদি আমরা আলাদা করতে পারি তাহলে মুক্তিযুদ্ধ সার্থক হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘৪৮ বছর পরেও সরকারিভাবে বঙ্গবন্ধুর একটি জীবনী তৈরি করতে পারিনি। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সরকার ক্ষমতায় আছে। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে তুলে ধরতে হবে, শুধু আতশবাজি করলে হবে না।’

নির্মূল কমিটির সহসভাপতি মমতাজ লতিফ বলেন, ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক বৈষম্য, হাঙ্গামা ছিল না। এটা ব্রিটেন ও পাকিস্তান থেকে এসেছে। বাঙালিরা আগে শান্তিতে বসবাস করত। তাদের মধ্যে শান্তির মেলবন্ধন ছিল। বঙ্গবন্ধু একটি অনগ্রসর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও বাঙালির লোকসংস্কৃতি বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন।’

সভাপতির বক্তব্যে নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, ‘মুজিববর্ষে আমাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আর্দশ জানতে হবে। সংবিধান সম্পর্কে এখনো অনেকেই জানে না। বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে সংবিধান পড়তে হবে, জানতে হবে। পাঠ্যসূচিতে বঙ্গবন্ধু, সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরো অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে মুজিববর্ষে উদ্যোগ নিতে হবে।’

আরো বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসংগ্রামী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী মানবাধিকার নেত্রী অ্যারোমা দত্ত এমপি, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুবিষয়ক সংসদীয় ককাস সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিরীন আখতার এমপি, নির্মূল কমিটির আইটি সেলের সভাপতি আসিফ মুনীর তন্ময় প্রমুখ।