শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগই আমার পরিবারঃ শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজ দল আওয়ামী লীগই তাঁর পরিবার। তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগে আছি, এখানেই থাকব। এটাই আমার পরিবার। পঁচাত্তর সালে আমি মা-বাবা, ভাই-বোন হারিয়ে বিশাল এক পরিবার পেয়েছি; সেটা হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরিবার।’ নবমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল শনিবার ঢাকায় আইইবি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের ওই কাউন্সিল অধিবেশনে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব পেয়েছেন ওবায়দুল কাদের। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন ছাড়াও সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাড়ে সাত হাজার কাউন্সিলর এতে অংশ নেন।

শেখ হাসিনা পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর কাউন্সিলররা স্লোগান ও করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। এতে আবেগাপ্লুত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চাচ্ছিলাম, আমাকে একটু ছুটি দেবেন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দায়িত্বে আছি। ৩৯ বছর চলছে। নেতাকর্মীদের ভালোবাসাই আমার একমাত্র শক্তি। সে জন্য চেষ্টা করেছি সংগঠনকে গড়ে তুলতে। তবে সামনে আপনাদের ভাবতে হবে। আমার ৭৩ বছর বয়স হয়েছে। এটা ভুলে গেলে চলবে না। নতুন নেতা নিয়ে ভাবতে হবে। দলকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।’

সাধারণ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবার আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন নতুন পর্ষদ গঠনের। ওবায়দুল কাদের পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। আর সভাপতি হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি আমার সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে অভিনন্দন জানাই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করছি। ছাত্রলীগ থেকেই আমাদের সবার যাত্রা শুরু।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘যে গুরুদায়িত্ব আপনারা আমাকে দিয়েছেন, তা যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারি তার জন্য সবার দোয়া চাই, সমর্থন চাই। এই কাউন্সিল থেকেই সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড গঠন করে নিতে চাই।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে সপরিবারে নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার পর তখনকার স্বৈরশাসকদের রোষানলে পড়ে লন্ডন ও নয়াদিল্লিতে ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটান শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা হাল ধরেন আওয়ামী লীগের। এর আগে সে বছরের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সেই থেকে টানা ৩৮ বছর ধরে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বেই উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো দেশ পরিচালনা করছে এবং তিনি রেকর্ড চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

মানুষের আস্থা যেন আ. লীগ ধরে রাখতে পারে : এর আগে সকালে কাউন্সিল অধিবেশনের শুরুতে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকারে থাকা আওয়ামী লীগ যেন মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ধরে রাখতে পারে, জাতির পিতার স্বপ্নের দেশ গড়ার কাজ যেন এগিয়ে নিতে পারে সে জন্য দলকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলার তাগিদও দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি বলব, সকলকে কাজ করতে হবে সেই চিন্তা থেকে যে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করা এবং মানুষ যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এবং আমরা যেন দেশ সেবা করে যেতে পারি, যেন জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়তে পারি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করেই আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। কাজেই আওয়ামী লীগকে সেইভাবেই গড়ে তুলতে হবে।’ ১০ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে। সে জন্য আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রতিটা কাউন্সিলরকে এটা মাথায় রাখতে হবে যে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’

কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেন। পরে দলের সংশোধিত ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী আগের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরু হয়। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন ওই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। কমিশনের অপর দুই সদস্য হলেন উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ড. মসিউর রহমান ও অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান।