যে গ্রামে পেঁয়াজ খাওয়া নিষিদ্ধ

পেঁয়াজের দাম কারসাজি করে রাতারাতি কোটিপতি হচ্ছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী, আর নাকাল হচ্ছেন সারা দেশের মানুষ। কিন্তু ভারতের বিহারের জাহানাবাদ জেলার চিরী পঞ্চায়েতের একটি গ্রামে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সামান্য প্রভাবও পড়েনি। খবর এনডিটিভির।

কারণ ওই গ্রামে কেউই কখনও পেঁয়াজ খান না। রাজ্যের অন্য গ্রামে যেখানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় রান্নাঘরের বাজেটে কাটছাঁট করতে হচ্ছে সবাইকে, পাটনার খুচরাবাজারে পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকা কেজি হয়ে যাওয়ায় সেখানকার মানুষ নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

জাহানাবাদ জেলার সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ত্রিলোকি বিগহা গ্রামে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কোনো প্রভাব পড়েনি। কারণ এই গ্রামের কেউই পেঁয়াজ খান না।

৩০ থেকে ৩৫ ঘরের এই গ্রামটিতে অধিকাংশই যাদব পরিবারের। যারা পেঁয়াজ-রসুন কিছুই খান না। এই পুরো গ্রামে পেঁয়াজ ও রসুন বাজার থেকে নিয়ে আসাও নিষেধ।

গ্রামের এক প্রবীণ রামবিলাস জানান, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে যে এখানকার বাসিন্দারা পেঁয়াজ খাচ্ছেন না, এমন নয়। বহু বছর ধরেই এখানে পেঁয়াজ-রসুন খাওয়া হয় না। তাদের পূর্বপুরুষরাও পেঁয়াজ খেতেন না। এবং আজও সেই পরম্পরা চলে আসছে।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা সুবরীতি দেবী বলেন, এই গ্রামেই ঠাকুরের একটি মন্দির আছে। তাদের পূর্বপুরুষরা পেঁয়াজ না খাওয়ার নিয়ম তৈরি করেছিলেন, তাই যা আজও বজায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৪০-৪৫ বছর আগে কোনো একটি পরিবার এই পরম্পরা ভাঙার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তা করার ফলে তার পরিবারের অশুভ এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিল তার পর থেকেই পেঁয়াজ খাওয়ার সাহস আর কেউই করেন না।

চিরী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, বহু বছর ধরেই এ গ্রামে এই পরম্পরা চলে আসছে। তিনি আরও বলেন, এটি অন্ধবিশ্বাসও হতে পারে। কিন্তু এটিই পরম্পরা হয়ে গেছে এখন।

তবে শুধু পেঁয়াজ আর রসুন নয়, এই গ্রামে নিয়ম এতটাই কড়া যে মাংস, মদ কেউ ছুঁয়েও দেখেন না। এই গ্রামে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা জানেনই না যে পেঁয়াজের দাম এতটা বেড়ে গেছে।