নির্যাতন

যৌন নির্যাতনে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে বেঁধে নির্যাতন!

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যৌন নির্যাতনে ব্যর্থ হয়ে ডাব চুরির অভিযোগ দিয়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রভাবে থানা অভিযোগ না নেওয়ায় মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।

মামলা আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের জন্য শিবালয় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন আদালত। এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে শিশু ও তার পরিবার।

জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মায়ের কথা অনুযায়ী বাড়ির পাশের দোকান থেকে মশার কয়েল আনতে যায় শিশুটি। সেখানে প্রতিবেশী দাদা অলি আহমেদের সঙ্গে দেখা হয়।

জরুরি কথা আছে বলে অলি আহমেদ তাঁর বাড়িতে শিশুকে ডেকে নেন। এ সময় পাড়ায় গানের আসরে সবাই চলে যাওয়ায় বাড়িতে আর কেউ ছিল না। একপর্যায়ে অলি আহমেদ তাকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা চালান। চিৎকার ও প্রতিরোধের ফলে ব্যর্থ হয়ে উঠানে গাছের সঙ্গে বেঁধে তাকে মারধর করেন।

এ সময় তার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে ডাব চুরির অভিযোগ তোলেন অলি আহমেদ। পরে এলাকাবাসী আহত শিশুকে উদ্ধার করে শিবালয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। দুই দিন চিকিৎসার পর তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। এ ব্যাপারে শিবালয় থানায় অভিযোগ করতে গেলে আদালতে মামলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে গত ২৭ অক্টোবর আদালতে মামলা করার পর শিবালয় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান জানান, গত ২০ নভেম্বর বাদী, ভুক্তভোগী শিশুসহ পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া শিশুটিকে নির্যাতনের ছবি ও তাকে হাসপাতালে ভর্তির ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আজকালের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

ঘটনার শিকার শিশুর বাবা জানান, অলি আহমেদ অর্থ-বিত্তে সমাজে প্রভাবশালী। মামলা করায় এখন তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অলি আহমেদের প্রভাবের কারণে থানা মামলা পর্যন্ত নেয়নি।

তবে অলি আহমেদ যৌন নির্যাতন চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ডাব চুরির অভিযোগে তাকে গাছে বেঁধে মারধরের কথা স্বীকার করেন। শিশুটির পরিবারকে কোনো হুমকি দেননি বলে দাবি করেন তিনি।