মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ট্রাম্পকে অভিশংসনে প্রকাশ্যে তদন্ত শুনানি শুরু

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার তিন বছরের প্রেসিডেন্টের মেয়াদকালে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ যে তদন্ত করছে প্রকাশ্যে তার শুনানি শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক ফায়দার জন্য ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগের দায়ে তার বিরুদ্ধে এই অভিশংসন তদন্ত।

যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার এই তদন্ত শুরু হয়েছে। শুনানি সরাসরি সম্প্রচার করছে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল। নানারকম গোপন প্রক্রিয়া শেষে বিরোধী ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তের শুনানি শুরু করলো।

কয়েক সপ্তাহ ধরে এই শুনানি চলবে। গত ২৫ জুলাইয় এক ফোনালাপে ডেমোক্র্যাট দলীয় সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে বারবার অনুরোধ করেন ট্রাম্প। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ট্রাম্প আত্মপক্ষ সমর্থন করে বেশ দম্ভ করে বলেছেন, মার্কিন কংগ্রেস তার বিরুদ্ধে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ যে অভিশংসন তদন্ত শুরু করেছে তা অসাধু এবং বেআইনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি এমন কিছুই করেননি। এ নিয়ে চিন্তা করছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে এই তদন্ত তাকে তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিশংসিত হওয়ার ঝূঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ১৮৮৬ সালে প্রথমবারের মতো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসন এবং ১৯৯৮ সালে আরেক সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে অভিশংসিত করা হয়।

তবে সাবেক ওই দুই প্রেসিডেন্ট নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হলেও দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে পার পেয়ে যান। তবে ১৯৭৪ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন অভিশংসন তদন্তের মুখে পদত্যাগ করেন। যা বিশ্বরাজনীতিতে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিত।

ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অভিশংসন করে চূড়ান্ত অনুমোদদের জন্য উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠাবে। তবে সিনেট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানের দখলে হওয়ায় শেষ চূড়ান্তভাবে অভিশংসিত হওয়ার ঝূঁকি কম।

এদিকে নিম্নকক্ষের গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যান ও ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্তের নেতৃত্ব দেয়া অ্যাডাম শিফ বলেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা এখন পর্যন্ত যে জবানবন্দি দিয়েছেন তাতে করে (ট্রাম্প) অভিশংসিত হওয়ার মতো যথেষ্ট অপরাধ করেছেন। এরমধ্যে ঘুষ, উচ্চ পর্যায়ের অপরাধ ও অপকর্মও আছে।’