bulbul

‘বুলবুল’র শক্তি কিছুটা কমেছে

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র শক্তি কিছুটা কমেছে, এরপরেও তা ১১০ কিলেমিটার গতির শক্তি নিয়ে উপকূলে আঘাত হানবে বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাম্মদ আয়েশা খাতুন শনিবার রাত ৮টায় ঝড়ের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হলেও উপকূলের ২০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি আসার মধ্যে বুলবুলের শক্তি কিছুটা কমেছে। ঘণ্টা তিনেক আগেও ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার থেকে ১৪০ কিলোমিটার ছিল। গতি এখন কিছুটা কমেছে। ঘূর্ণিঝড়ের চারপাশে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার।

ঘূর্ণিঝড়টি এখন উপকূলের কাছাকাছি জানিয়ে আয়েশা খানম বলেন, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানা এখনও শুরু করেনি। এখন উপকূলের কাছাকাছি। মধ্যরাতে অতিক্রম করতে পারে।

আয়েশা খাতুন জানান, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ সহ ঘণ্টায় ১শ’ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ও মুন ফেজ এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর,বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

তিনি জানান, এটি আজ বিকাল ৩ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থাান করছে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদধ বন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ (নয়) নম্বর মহবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।