জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার : সেরা ছবি ঢাকা অ্যাটাক ও পুত্র

সব জল্পনা কল্পনা শেষে অবশেষে ঘোষিত হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তথ্য মন্ত্রণালয় ২০১৭ ও ২০১৮ সালের পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে আজ ৭ নভেম্বর। জানা গেল বিগত দুই বছরে চলচ্চিত্রে সেরাদের নাম।

ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৭ সালের সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’। ২০১৮ সালের সেরা ছবি ‘পুত্র’। তবে এই দুই ছবির পরিচালকরা কেউই সেরা পরিচালক হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশে ১২৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ঢাকা অ্যাটাক’। বছরের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা ছিলো এটি। এখানে চলচ্চিত্র নির্মাণে অভিষেক ঘটে দীপঙ্কর দীপনের। পুলিশি অ্যাকশন গল্পের ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ ও মাহিয়া মাহি। শুভ এই ছবিতে পুলিশের অফিসার চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে সেরা অভিনেতার পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন।

এছাড়াও ছবিটিতে ছিলেন এবিএম সুমন, কাজী নওশাবা আহমেদ, শতাব্দী ওয়াদুদ, তাসকিন রহমান প্রমুখ। ছবিটির একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং।

অন্যদিকে ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি ১০৬টি হলে মুক্তি পায় ‘পুত্র’ ছবিটি। ফেরদৌস ও জয়া আহসান জুটির ছবিটি ব্যবসায়িক সাফল্য না পেলেও বেশ প্রশংসিত হয় দর্শক ও সমালোচকদের কাছে। চলচ্চিত্রটির গল্প এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন ডিএফপির মহাপরিচালক হারুন রশীদ এবং পরিচালনা করেছেন সাইফুল ইসলাম মান্নু।

অটিজম নিয়ে নির্মিত ‘পুত্র’ চলচ্চিত্রে ফারিয়া শামস সাওতি এবং শিশুশিল্পী লাজিম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও এ চলচ্চিত্রে আজিজুল হাকিম, ডলি জহুর, লায়লা হাসান, মনির খান শিমুল, শামস সামস, মুনিরা ইউসুফ মোমি, শর্মি মালা, আল মামুন, লিনা আহমেদ, মাহমুদ সজদ, বাপ্পা মজুমদার, ফাহমিদা নবী, মেহেরিন, মিলটন খন্দকার প্রমুখ।

চলচ্চিত্রটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সহযোগিতায় জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দিতে জুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। গঠিত বোর্ড সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলো মূল্যায়ন করে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম সুপারিশ করেছে। তারই ভিত্তিতে প্রদান করা হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

১৩ সদস্য বিশিষ্ট জুরি বোর্ডে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (প্রশাসন ও চলচ্চিত্র) সভাপতি করা হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সদস্য-সচিব হিসেবে এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (চলচ্চিত্র) ও বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া ২০১৭ সালের জুরি বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া, একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান বুলবুল, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কোহিনুর আক্তার সুচন্দা, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক এম এ আলমগীর, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, চিত্রগ্রাহক পংকজ পালিত ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম।

২০১৮ সালের জুরি বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া, চলচ্চিত্র অভিনেতা ড. এনামুল হক, সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক হাসান মতিউর রহমান, অভিনেত্রী রওশন আরা রোজিনা, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থার যুগ্ম-মহাসচিব তপন আহমেদ।

এবার মোট ২৮টি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। সেগুলো হলো আজীবন সম্মাননা, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা প্রধান চরিত্রে, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী প্রধান চরিত্রে, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পার্শ্ব চরিত্রে, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব চরিত্রে, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা/অভিনেত্রী খল চরিত্রে, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা/অভিনেত্রী কৌতুক চরিত্রে, শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী, শিশু শিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক, শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক, শ্রেষ্ঠ গায়ক, শ্রেষ্ঠ গায়িকা, শ্রেষ্ঠ গীতিকার, শ্রেষ্ঠ সুরকার, শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার, শ্রেষ্ঠ চিত্র নাট্যকার, শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা, শ্রেষ্ঠ সম্পাদক, শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক, শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক, শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা এবং শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান।