কাশ্মীর আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিখণ্ডিত হলো

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর আনুষ্ঠানিকভাবে দিখণ্ডিত হলো। ভারত অংশে এখন থেকে কাশ্মীর উপত্যকার পরিচিতি হবে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে ভারতের কেন্দ্রশাসিত দুটি অঞ্চল হিসেবে। থাকবে নামমাত্র বিধানসভা। সেখানে প্রধানের দায়িত্বে থাকবেন সরকার মনোনীত দুজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর।

বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার প্রায় তিন মাস পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন কট্টর হিন্দুত্ববাদী দলের জোট সরকারের আনুষ্ঠানিকভাবে কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো আজ। জম্মু-কাশ্মীরের এতদিন বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা ছিল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার গিরিশ চন্দ্র মুরমু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এদিকে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাধা কৃষ্ণ মাথুর।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হওয়ায় এখন জম্মু ও কাশ্মীরের সব ধরনের প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। শুধু জমির বিষয়টি দেখবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচিত সরকার। লাদাখও একইভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। যা পরিচালনা করবেন সেখানকার লেফটেন্যান্ট গভর্নর।

জম্মু ও কাশ্মীর দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতে রাজ্যের সংখ্যা কমে দাঁড়াল ২৮ এ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংখ্যা বেড়ে ৯ হল। পুদুচেরির মতোই জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা থাকবে, কিন্তু চণ্ডীগড়ের মতো লাদাখে কোনও বিধানসভা থাকবে না।

গত ৫ আগস্ট ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নির্দেশ জারির মধ্য দিয়ে মোদি সরকার দেশটির সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেয়। ফলে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর বিশেষ মর্যাদা হারায়। এতদিন আলাদা পতাকা ছাড়াও তাদের নিজস্ব প্রধানমন্ত্রী ও সংবিধান ছিল। জমি কিনতে পারতো না বাইরের মানুষ।

বুধবার রাত বারোটার পর থেকেই জম্মু ও কাশ্মীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়ে দেয়, কাশ্মীর আর কোনো রাজ্য নয়। এটি এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এছাড়াও, অবিভক্ত জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা ভেঙে দিয়ে এতদিন ধরে উপত্যকায় কেন্দ্রীয় সরকার যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে রেখেছিল তাও বাতিল করা হয়েছে। কেননা জম্মু-কাশ্মীর বলে আর কোনো রাজ্য না থাকায় সেখানে রাষ্ট্রপাতি শাসন জারি থাকার আর কোনো প্রয়োজনীয়তাও নেই।

জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেয়ায় ভারতের মোট রাজ্যসংখ্যা এখন কমে দাঁড়াবে ২৮টিতে। অপরদিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ যোগ হওয়ায় তা বেড়ে হবে ৯টি। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরে নামমাত্র বিধানসভা থাকলেও লাদাখে কোনো বিধানসভা থাকবে না।

এছাড়া, মোদির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ৫৯ বছর বয়সী গিরিশ চন্দ্র মুরমুকে জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, নিয়ম ভেঙ্গে জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের বদলে মোদি সাবেক এই প্রতিরক্ষা সচিবকে সেখানে নিয়োগ দিয়েছেন।