তাবরেজের বাবাকেও ১৫ বছর আগে পিটিয়ে মেরেছিল উগ্রবাদী হিন্দুরা

ঝাড়খণ্ডে চোর অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে মুসলিম যুবক তাবরেজ আনসারিকে। ১৫ বছর আগে একইভাবে হত্যা করা হয়েছিল তার বাবা মাসকুর আলমকেও।

১৮ ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে বিজেপি সরকার সমর্থিত উগ্রবাদী হিন্দুরা হত্যা করে তাবরেজকে। তার মুখ দিয়ে জোর করে বলানো হয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় হনুমান’ স্লোগান।

এ ঘটনায় ভারত জুড়ে তোলপাড় চলছে। এর মধ্যেই সামনে এল আরও একটি খবর। জানা গিয়েছে, ১৫ বছর আগে এভাবেই মৃত্যু হয়েছিল তাবরেজের বাবা মাসকুর আলমের। চোর অপবাদ দিয়ে‌ তাকে পিটিয়ে মেরেছিল উন্মত্ত জনতা।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে আজকাল জানায়, ২০০৪ সালে জামশেদপুরের বাগবেরা অঞ্চলে নাকি চুরি করতে গিয়ে নাকি ধরা পড়েছিলেন মাসকুর। তখন উগ্রবাদী জনতা তাকে পিটিয়ে মারে।

তাবরেজের পরিবারের এক প্রতিবেশী বৃদ্ধা সেই দিনের ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, “তাবরেজের বাবাকেও এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল। উন্মত্ত জনতা তার গলা কেটে দিয়েছিল। ওর মৃতদেহ যখন এখানে নিয়ে আসা হয়, তখন আমরা এখানেই ছিলাম।‌” ‌

তাবরেজের মৃত্যুর তদন্তে ইতিমধ্যে ২০০৪ সালের নভেম্বরে ঘটা ওই ঘটনার তথ্যগুলো খতিয়ে দেখছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদিকে তাবরেজের পরিবার জানাচ্ছে ভিন্ন ঘটনা। তাবরেজের কাকা মাকসুদ আলম এএনআই’কে বলেন, “গণপিটুনিতে নয়, বন্ধুদের সঙ্গে শত্রুতার জন্য তাকে খুন হতে হয়েছিল। ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। কেউ গ্রেপ্তারও হয়নি।‌”

একইভাবে তাবরেজের বাবার বন্ধু সাব্বির খান বলেন, “তাবরেজের বাবা আমার প্রতিবেশী ছিল। ১৫ বছর আগে তাকে খুন করা হয়েছিল। ঘটনায় কাউকে ধরা সম্ভব হয়নি। গ্রামবাসীরা তাবরেজের বাবার মৃতদেহ ড্রেনের পাশ থেকে উদ্ধার করেছিল। ওটা কোনোভাবেই গণপিটুনির ঘটনা ছিল না।‌”

উল্লেখ্য, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মাসকুরের ছেলে তাবরেজকে একটি মোটর সাইকেল চুরির দায়ে সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়। এরপর জনতা তাকে বেদম মারপিট করে। সারারাত একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। তারপর তুলে দেয় পুলিশের হাতে। পুলিশ ২ দিন পরে তাকে হাসপাতালে পাঠায়।

পরে তিনি মারা যান। তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি মুসলিম হওয়ায় তাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। নির্যাতনের সময় তাকে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় হনুমান’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়েছে।