ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলংকার জয়ে বাংলাদেশের ভাগ্য খুললো কী?

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জেতার পর সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছিল বাংলাদেশের। সেটা মলিন হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে।

সামনে রয়েছে বাকি তিন ম্যাচ (আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তান), যা জিতলেও সেমিফাইনাল নিশ্চিত ছিল না টাইগারদের। অন্যদের জয় পরাজয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো।

ছয় ম্যাচ থেকে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু গতকাল ইংল্যান্ডের হেডিংলি লিডসে লাসিথ মালিঙ্গার গতিতে উড়ে গেল ইংল্যান্ড। যা কল্পনা করেনি অনেক ক্রিকেটবোদ্ধারাও।

টানটান উত্তেজনার সে ম্যাচে ইংল্যান্ড বধ করে সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণে ভূমিকম্প আনল ম্যাথিউসরা।

এ জয়ে বাংলাদেশকে এক ধাপ নিচে নামিয়ে দিল রাবণের লংকাপুরী।

যে কারণে অনেকটাই হতাশা নেমে এসেছে বেশ কিছু বাংলাদেশি সমর্থকদের মাঝে। পয়েন্ট টেবিলে হিসেব মিলাতে ক্যালকুলেটর নিয়ে বসেছেন কেউ কেউ।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি সমর্থকদের আশ্বস্ত করার যে সমীকরণটি উঠে এসেছে, পয়েন্ট টেবিলে এক ধাপ নিচে নেমে গেলেও শেষ চারে ঠাঁই নিতে এখনও আশার আলো জ্বলছে মাশরাফিদের কপালে।

কারণ গতকাল শ্রীলংকার কাছে হেরে ৮ পয়েন্টেই থাকতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে। ১০ আর হয়নি তাদের। আর শ্রীলংকা ৬ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মাঝে অবস্থান নিয়েছে।

বিশ্বকাপের মাঝপথে এসে ঘুরে দাঁড়ানো শ্রীলংকার সামনে এখন দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ভারত। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বিপক্ষে সুবিধা করে উঠতে পারবে না শ্রীলংকা। তবে এ বিশ্বকাপে একেবারেই ফর্মহীন দ. আফ্রিকার বিপক্ষে জয় পেতে পারে তারা। ইন্ডিজকে ধরাশায়ী করতে পারলেও লংকানদের পয়েন্ট গিয়ে দাঁড়াবে ১০-এ। আর তিন ম্যাচের কোনোটাতেই না জিতলে ৬ পয়েন্টেই থেকে যাচ্ছে তারা।

এদিকে ইংল্যান্ডের সামনের ৩ ম্যাচে প্রতিপক্ষ সবই বিশ্বকাপ দাবিদার – অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং নিউজিল্যান্ড। তিন ম্যাচেই হারের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে ইংলিশদের।

তেমনটা হলে সেমিফাইনালের ছায়টুকুও দেখবে না স্বাগতিকরা।

এদিকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দুই দল তুলনামূলক নির্ভার। ৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থান দখল করা নিউজিল্যান্ডের সামনে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়াকে ছেড়ে দিলেও পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর সক্ষমতা কিউইদের বেশ আছে।

এদিকে সবার চাইতে কম ম্যাচ খেলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে প্রহর গুনছে ভারত। চারটি ম্যাচ রয়েছে তাদের হাতে। সেখান থেকে দুটোতে জিতলেই পয়েন্ট ১১ হয়ে যাচ্ছে কোহলিদের।

সে হিসাবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ভারতে জন্য সেমিফাইনালের পথ অন্যসব দল থেকে মসৃণই বটে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে – চতুর্থ দল হিসাবে কে ভাঙবে সেমির দুয়ার?

গতকাল শ্রীলংকার কাছে ইংল্যান্ড হেরে নিজেদের সেই পথ কঠিনই করে ফেলল। আর আশা জাগলো বাংলাদেশের।

তাই বাংলাদেশকে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকার হারের দিকেই। আর নিজেদের জিততে হবে কমপক্ষে দুটো ম্যাচ।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় প্রত্যাশা করছে বাংলদেশ। প্রত্যাশা পূরণ হলে টাইগারদের পয়েন্ট হবে ৯।

যদিও ভারতের বিপক্ষেও জয়ের প্রত্যাশা মাশরাফি বাহিনীর। তবে সেটা যে কন্টকাকীর্ণ পথ সে কথা সবারই জানা।

ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকা তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলো হারলে পয়েন্টে টেবিলে বাংলদেশের নিচেই অবস্থান করবে।

ইতিমধ্যে সেমির দুয়ার বন্ধ হয়েছে আফগানিস্তানের। আর মাত্র ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ. আফ্রিকা, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য সেমিফাইনালের আলো অনেকটাই নিভুনিভু করছে।

সেক্ষেত্রে এসব সমীকরণ বিচারে চতুর্থ দল হিসাবে সেমিফাইনালের দুয়ার খুলবে বাংলাদেশেরই।