রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আসছে ফুয়েল

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নিউক্লিয়ার ফুয়েল তথা ইউরেনিয়াম কিনছে সরকার। বাংলাদেশ ও রাশান ফেডারেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তির আওতায় নিউক্লিয়ার ফুয়েল সাপ্লাইয়ের নিমিত্ত একক উৎস রাশান ফেডারেশনের নির্ধারিত ঠিকাদার টিভিইএল জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে সরাসরি ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে ইউরেনিয়াম কেনা হবে।

এ জন্য বাংলাদেশ টিভিইএল জয়েন্ট স্টক কোম্পানির সঙ্গে শিগগিরই চুক্তি করবে সরকার। চুক্তিতে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ৫২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (১৯ জুন) কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘২০২৭ সাল থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিউক্লিয়ার ফুয়েল রিলোড করা হবে। সে সময় এসব ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হবে। এ জন্য এখনই চুক্তি করতে হবে। চুক্তিতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালে ইউরেনিয়ামের বাজারদর অনুযায়ী দাম কম কিংবা বেশি হতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ১৮ মাস পর পর নিউক্লিয়ার ফুয়েল রিলোড করা হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ঠিকাদার টিভিইএল জয়েন্ট স্টক কোম্পানির কাছ থেকে ইউরেনিয়াম ক্রয় করবে সরকার।

উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে ২০২২ সালে। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের দুটি ইউনিট থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

এককভাবে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। ঋণ হিসেবে রাশিয়া দিচ্ছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকিটা দিচ্ছে বাংলাদেশ।