খাশোগি হত্যা : যুবরাজ বিন সালমানকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজপরিবারের সমালোচক ও সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্ট থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যাগনেস ক্যালামার্ড নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের পর এক প্রতিবেদনে এই দাবি করেছেন।

সৌদির রাজপরিবারের উপদেষ্টা থেকে সমালোচক বনে যাওয়া নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগি গত বছরের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তুরস্ক বলছে, সৌদি সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের পাঠানো একদল ঘাতক জামাল খাশোগিকে হত্যা করেছে। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে বৈশ্বিক প্রচণ্ড চাপের মুখে খাশোগিকে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করে সৌদি। তবে তার মরদেহের সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমবারের মতো স্বাধীন একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডবিষয়ক বিশেষ দূত অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। ওই প্রতিবেদনে ক্যালামার্ড বলেছেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-সহ উচ্চ পর্যায়ের আরো বেশ কিছু সরকারি কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সৌদি যুবরাজকে ইঙ্গিত করে প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, কাউকে দোষী বানানোর জন্য এই উপসংহারে পৌঁছানো হয়নি। এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ যথাযথ কর্তৃপক্ষ যাতে আরো তদন্ত চালাতে পারে; আর এ জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও রয়েছে।

অ্যাগনেস ক্যালামার্ড উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, তিনি প্রমাণ পেয়েছেন যে, সৌদি যুবরাজের ক্ষমতা সম্পর্কে খাশোগি জানতেন এবং তার ভয়ে ভীত ছিলেন।

এদিকে, সৌদি যুবরাজ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয় বলে দাবি করেছে সৌদি প্রসিকিউটররা। তারা বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় দুই ডজন কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা চাওয়া হয়েছে।

খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বাধীন মানবাধিকারের তদন্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন ক্যালামার্ড। বেআইনি এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালাতে সৌদি আরব এবং তুরস্ক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুস্মরণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু করতে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্যালামার্ড।

সূত্র : ডেইলি মেইল, এএফপি।