তারেক রহমান
তারেক রহমান

বিএনপির এমপিদের সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দলীয় সংসদ সদস্যদের জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ নির্দেশ দেন। দলীয় এমপিদের নির্দেশনা দিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ও গঠন করেছে বিএনপি।

বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির ছয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে স্কাইপের মাধ্যমে যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে সংসদ সদস্যদের পরামর্শ দিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ গঠন করেছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল ছাড়াও কমিটিতে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপি সংসদে থাকবে। সংসদীয় রীতিনীতি মেনে বক্তব্য রাখবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রতিবাদও জানাবে। কিন্তু এমন কিছু করবে না যাতে সংসদের পরিবেশ নষ্ট হয়। নির্দেশনা মতে, জাতীয় সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন মঙ্গলবারই সংসদে যোগ দেয় বিএনপি। এদিন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে অনেক দিন পর সংসদে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছিল। জানতে চাইলে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশনে আমাদের করণীয় সম্পর্কে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমরা সরব থাকব।

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতির মহাতাণ্ডব চলছে। বালিশ নিয়ে মানুষ আন্দোলন করছে। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাট হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। জনগণের পক্ষে এসব বিষয় সংসদে তুলে ধরব। তবে কতটা পারব জানি না। এ ক্ষেত্রে স্পিকার আমাদের কতটা সহযোগিতা করে সেটি দেখতে হবে। হারুন বলেন, ‘চলতি অধিবেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা বাজেট অধিবেশন। বাজেটে জনস্বার্থবিরোধী কিছু থাকলে তা জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে। বাজেট যাতে জনস্বার্থে হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।’ সোমবারের বৈঠকের বিষয়ে বাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার গণমাধ্যমকে বলেন, সংসদ অধিবেশন নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।

যেন আমরা সবাই ঠিক থাকি, সবকিছুর ঠিকঠাক জবাব দিতে পারি, নিয়মিত অধিবেশনে যোগ দিই—এসব ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে দল থেকে। পাশাপাশি সংসদে যোগদানের সুযোগের কীভাবে সদ্ব্যবহার করা যায়, সে বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে দলের সদস্যদের বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি প্রাধান্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।সেই মোতাবেক বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিএনপির নারী সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বক্তব্য রাখেন।

তিনি ফ্লোর নিয়ে বলে ওঠেন, একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এ সময় সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। বিএনপির এ এমপি প্রায় আড়াই মিনিট বক্তব্য রাখলেও সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের চিৎকার, চেঁচামেচি ও প্রতিবাদের কারণে সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি।

ফ্লোর নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। টিআইবিসহ সবাই বলেছে- এ সংসদ জনগণের ভোটে হয়নি। তাই খুশি হব এই সংসদের মেয়াদ যেন একদিনও না বাড়ে। দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি, যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের, গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনো দিন, কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি- সেই বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই।

তাকে পরিকল্পিতভাবে, একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আজকে কারাগারে ১৬ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই- বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে ম্যারিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স, সবকিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’

তারেক রহমানের প্রতি সরকার অন্যায় করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। মাননীয় স্পিকার তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।’ জানা গেছে, সোমবারের ওই বৈঠকে বাজেট অধিবেশনের বিষয় অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতে সরকারের অনিয়মের বিষয়টিও তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি। সরকারের অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সংসদ সদস্যদের সাহায্য করবেন কেন্দ্রীয় কমিটির স্ব স্ব বিষয়ক সম্পাদকমণ্ডলীর নেতারা।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান আগেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়কভিত্তিক সম্পাদকদের সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে পৃথক পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। যেমন, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। সেই প্রতিবেদন সংসদ সদস্যরা সংসদে তুলে ধরবেন। এ রকম সব সম্পাদককে ছায়ামন্ত্রীর মতো প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দেয়া আছে।

সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন—উকিল আব্দুস সাত্তার, মো. হারুনুর রশীদ, মো. জাহিদুর রহমান, মো. আমিনুল ইমলাম, মোশারফ হোসেন ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

শেয়ার করুন: