নাটকীয় ম্যাচে হেরেই গেল পাকিস্তান

অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে এই শব্দটি সবচেয়ে বেশ সম্ভবত পাকিস্তানের গায়েই সাঁটানো হয়েছে। টালমাটাল দল নিয়ে বিশ্বকাপে আসা পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারলো বাজেভাবে। স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারালো দারুণ খেলে। বৃষ্টির ভাসিয়ে নিয়ে গেল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নেমে মুহূর্তে মুহূর্তে রঙ পাল্টে শেষ পর্যন্ত হেরে গেল ৪১ রানে।

টস হেরে আগে ফিল্ডিং করতে নেমে ক্যাচ আর ফিল্ডিং মিসের মহড়া দিয়েছে। একটা সময় ধারণা করা হচ্ছি ৪০০ ছুঁবে অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ আমীর হাতে ধরে তাদের আটকে দিলো ৩০৭ রানে।

টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই ফেরেন ওপেনার ফখর জামান। ইমাম-উল হককে সঙ্গে নিয়ে বেশিদূর যেতে পারেননি বাবার আজম। ২৮ বলে ৩০ রান করে নাথান কোল্টার-নেইলের শিকার হন তিনি।

এরপর পিজে আসেন মোহাম্মদ হাফিজ। দুজনের ৮০ রানের জুটি ভাঙেন প্যাট কামিন্স। অর্ধশতক হাঁকানো ইমাম ফিরে গেলে অধিনায়ক শরফরাজের সঙ্গে জুটি গড়েন হাফিজ। তবে বলের সঙ্গে ব্যালান্স করে রান নিতে থাকা হাফিজ ৪৬ রানে ক্যাচ তুলে দেন।

দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে হারিয়ে চরম চাপে পড়ে পাকিস্তান। হাফিজের বিদায়ের সময় পাকিস্তানের স্কোর ৫ উইকেটে ১৪৬ রান। এরপর ক্রিজে এসেই শূন্য রানে শোয়েব মালিক এবং ৫ রানে আসিফ আলী বিদায় নিলে কার্যত প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের।

কিন্তু টিমটিম করে জ্বলতে থাকা আশার প্রদীপে জ্বালানি ধালতে থাকেন অধিনায়ক সরফরাজ আহেমদ। তাকে সঙ্গ দিতে এসে ১৫ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন হাসান আলী। এরপর ওয়াহাব রিয়াজ ক্রিজে এসে প্রমাণ করে দেন পাকিস্তান আসলেই আনপ্রেডিকটেবল।

৩৪ ওভারে ২০০ রানে ৭ উইকেট খুইয়ে বড় হারের প্রহর গুনতে থাকা দল একটা পরের পাঁচ সাত ওভারের মধ্যে জয়ের ভালো সম্ভাবনা তৈরি করল। আবার ওয়াহাব রিয়াজ আউট হয়ে যাওয়ার পর আমিরও ফিরলেন কোন রান না করেই।

শাহীন আফ্রিদী নামলেন শেষ উইকেট হিসেবে। ব্যাটটা ঠিকমতো চালাতেই জানেন না এ পেসার। অথচ ৪৫ তম ওভারের শেষ বলে রান নিয়ে আবারো তাকেই স্ট্রাইক এন্ডে পাঠালেন সেট ব্যাটসম্যান সরফরাজ। সিঙ্গেলের মরিয়া সরফরাজ এরপর অদ্ভুতভাবে রানের জন্য দৌড় দিয়ে রান আউট হয়ে গেলেন। পাকিস্তান হেরে গেল ৪১ রানে।