নুসরাত হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ২০ জুন

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী ২০ জুন হবে। একইসঙ্গে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার সকালে এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, খুবই স্পর্শকাতর এই মামলার অভিযোগপত্র ও প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার সামগ্রিক নথিটি গত ২৮ মে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে দাখিল করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা।

সেদিন অভিযোগপত্রসহ কেস ডকেট (সার্বিক নথি) জমা দিলেও বিচারক অভিযোগপত্রটি পর্যবেক্ষণ করে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুন উর রশিদের আদালতে পাঠিয়ে দেন।

এরপর গত ৩০ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে আসামিদের হাজির করা হলেও বিচারক সেদিন অভিযোগপত্র গ্রহণের ওপর শুনানি না করে ১০ জুন শুনানির তারিখ ধার্য করেন। সে অনুযায়ী আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শুনানি শুরু হয়। এ সময় মামলার ২১ আসামিকেই আদালতে হাজির করে পিবিআিই।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) প্রিয়রঞ্জণ দত্ত জানান, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ২১ আসামিকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ১৬ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে দেয়া চার্জশিট আমলে নেন। আগামী ২০ জুন চার্জ গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, প্রভাষক আবসার উদ্দিন, মো. শামিম, ইফতেখার উদ্দিন, নূর উদ্দিন জামিন চাইলে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইভাবে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও শাহিদুল ইসলামের নাম চার্জশিটে না থাকায় মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, অধ্যক্ষের কাছে শ্লীলতাহানির শিকার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার পরিবারের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করায় হত্যার উদ্দেশে গত ৪ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ১২ এপ্রিল মামলাটি পিবিআইতে পাঠানো হয়। পুলিশ ও পিবিআই এ ঘটনায় ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। গত ২৮ মে আদালতে ১৬ জনের ফাঁসির আবেদন করে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই।