‘কিছু ছাগল নিজেকে জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রীর থেকেও বড় বিএনপি নেতা মনে করছে’

এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, রাজনীতিতে কিছু ছাগল আছেন, যারা নিজেকে জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রীর থেকেও বড় বিএনপি নেতা মনে করেন। শুক্রবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে দলের ইফতার মাহফিলে তিনি একথা বলেন।

ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন- জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. মো. শফিকুর রহমান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, কামাল ইবনে ইউসুফ, শওকত মাহমুদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মুফতি মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ।

অলি আহমদ বলেন, ‘২০ দলীয় জোটে যোগ দেয়ার পর খালেদা জিয়াবিহীন এটি এলডিপির দ্বিতীয় ইফতার। তার অনুপস্থিতিতে আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নানা রকম ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ২০ দলীয় জোট ভাঙতে অনেকেই উঠেপড়ে লেগেছে। ইদানিং দেখছি, কিছু লোক চায় না খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাক।’

এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, দেয়াল নিচু হলে ছাগল লাফ দিয়ে তার উপরে উঠে যায়। পাশে মালিক থাকলেও সে নিজের উচ্চতায় বেশি দেখে। আমাদের রাজনীতিতেও এমন ছাগলে ভরে গেছে। ভাবখানা এমন, তারা যেন জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রীর থেকেও বড় বিএনপি নেতা।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বলছে- দেশে উন্নয়নের রাজনীতি হচ্ছে। এটা কোনো মিথ্যা কথা নয়, এটা সত্য। কিন্তু, কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন ৭৬ শতাংশ যৌন হয়রানি হচ্ছে। সুতরাং উন্নতি যে হচ্ছে না, আবার সোনার ছেলেরা অপকর্মে যে লিপ্ত হচ্ছে না, এটা ঠিক না। কিন্তু, গ্রামগঞ্জে সাধারণ মানুষের অবস্থা ভয়াবহ। কৃষকেরা দাম পাচ্ছে না বলে ধান পুড়িয়ে দিচ্ছে। গরিব ও মধ্যবিত্তরা অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।’

অলি আহমদ বলেন, ‘এদেশে এখন বহু ড্রামা আমরা দেখছি। কিন্তু, একটা কথা স্মরণ রাখতে হবে- আল্লাহ প্রত্যেকটা জিনিস দেখছেন। কে ভালো আর কে মন্দ? আমরা হয়তো একে অপরকে ধোঁকা দিতে পারি। আল্লাহকে ধোঁকা দেয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে একটা আদেশ জারি হয়েছে- বিচারাধীন বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। অর্থাৎ কেউ অন্যায় করলেও তার বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। এভাবে আমাদের নিজ দেশে পরাধীন হিসেবে বেঁচে থাকতে হচ্ছে।’