এসিআই প্রাণ টিকেসহ ৭ কোম্পানির পণ্যের লাইসেন্স স্থগিত

গুণগত মান খারাপ হওয়ায় কারণে দেশের বড় কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ১৮টি পণ্যের লাইসেন্স স্থগিত করেছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই। এর পাশাপাশি সাতটি পণ্যের লাইসেন্স বাতিল করেছে তারা। তবে এ কোম্পানিগুলো জাতীয়ভাবে তেমন পরিচিত নয়।
আজ বুধবার বিএসটিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

লাইসেন্স স্থগিত হওয়া পণ্যগুলো হচ্ছে- টিকে গ্রুপের শবনম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের পুষ্টি ব্র্যান্ডের ভোজ্য তেল; (জিবি),বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের উৎপাদিত রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সোয়াবিন তেল ; সিটি অয়েল মিলের তীর ব্র্যান্ডের সরিষার তেল; প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের প্রাণ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই; পারটেক্স গ্রুপের ড্যানিশ,

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রাণ ও মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ ব্র্যান্ডের হলুদের গুড়া। স্থগিত হয়েছে এসিআই ও মোল্লা ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, এসিআই এর পিউর ব্র্যান্ডের ধনিয়াগুড়া, প্রাণ ও ড্যানিশের কারি পাউডার, নিউজিল্যান্ড ডেইরির ডুডলস ব্র্যান্ডের নুডলস, কাশেম ফুডের সান ব্র্যান্ড চিপস, গ্রিন ব্লিসিং ভেজিটেবল অয়েলের ভোজ্য তেল; আররা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (আররা), ডানকান প্রোডাক্ট (ডানকান) ও দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার (দিঘী) এর ড্রিংকিং ওয়াটার।

লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ৭ কোম্পানি

লাইসেন্স বাতিল হওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকায় ড্রিংকিং ওয়াটারের মধ্যে আল সাফি ড্রিংকিং ওয়াটার, শাহারী অ্যান্ড ব্রাদার্সের নারজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ন ডিউ পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার এবং আর আর ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার রয়েছে।

কেরাণীগঞ্জে শান্তা ফুড প্রডাক্টসের টেস্টি, তানি ও তাসকিয়া এবং কামরাঙ্গীরচরের জাহাঙ্গীর ফুড প্রডাক্টসের প্রিয়া ব্র্যান্ডের সফট ড্রিংক পাউডারেরও লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুরের বনলতা সুইটস অ্যান্ড বেকারীর বনলতা ব্র্যান্ডের ঘি-এর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিত হওয়া পণ্যগুলো বাজার থেকে তুলে নিতে কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বিএসটিআই। এসব পণ্য সংরক্ষণ, ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

লাইসেন্স স্থগিত হওয়া কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে পণ্যের মনোন্নয়ন করে আবার লাইসেন্স গ্রহণের জন্য বিএসটিআই এর কাছে আবেদন করতে হবে। পুনরায় অনুমোদন পেলেই কেবল কোম্পানিগুলো এসব পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করতে পারবে।

বিএসটিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোজা শুরুর আগে বাজারে গোপন অভিযান চালিয়ে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এসব পণ্যের মধ্যে ৫২টি পণ্য নিম্নমানের হিসাবে চিহ্নিত হয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায়। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বিপণন কোম্পানিগুলোকে এ নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস বিভাগের উপ-পরিচালক রিয়াজুল হক জানান, নোটিশের উত্তর দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার পরও উত্তর না আসায় ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।