২২ হাজার কোটি টাকার জন্য সিগারেট বন্ধ করা যায় না!

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, তামাক ও তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর সরকারকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিচ্ছে। বাজেট প্রণয়নের সময় এই বিপুল অঙ্কের রাজস্বের কারণে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য বন্ধ করা যায় না।

তবে তিনি এও বলেছেন, পরোক্ষভাবে ওই রাজস্বের চেয়েও বেশি খরচ হচ্ছে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত লোকদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য।

রবিবার (১২ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফের অডিটোরিয়ামে তামাকবিরোধী জাতীয় প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেমিনার ও তামাক নিয়ন্ত্রণ পদক-২০১৯’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য তো রাজস্ব দরকার। এই ২২ হাজার কোটি টাকা সরকার কিভাবে পাবে? এ জন্য আপনারা, উদ্যোক্তারা যখন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা উপলব্ধি করেন বা তাঁদেরও উপলব্ধি আছে যে সিগারেট বন্ধ করা দরকার।

কিন্তু যখন বাজেট করতে যায় তখন ওই ২২ হাজার কোটি টাকা নানাভাবে পেছনে টানে। এই হলো মূল সমস্যা। এত বড় অঙ্কের রাজস্ব যারা দেয় চাইলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।

তবে এর উপায়ও বলে দিয়েছেন ড. আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন,‘শুধু যারা ঢাকায় বসবাস করেন, তারা সঠিকভাবে তাদের ট্যাক্স দিলে তামাক কোম্পানির এই ট্যাক্স পরিহার করা সহজ হবে এবং তামাক উৎপাদনও বন্ধ করা যাবে।

এছাড়া তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষির আধুনিকায়ন, যান্ত্রিকিকরণ এবং রফতানি বাজার অপরিহার্য। সামগ্রিক অর্থে কৃষির আধুনিকায়নই তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করবে চাষিদের।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা: ২০৪০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ থেকে তামাক শতভাগ নির্মূল করা হবে। কৃষিকে সত্যিকার অর্থে বাণ্যিজ্যিক কৃষি, আধুনিক কৃষি করা গেলে ২০৪০ সালের আগেই তামাকমুক্ত সমাজ গড়া যাবে। এরই মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে সবার অংশগ্রহণ জরুরি।’

অনুষ্ঠানে এক উপস্থাপনায় দেখানো হয়, বিশ্বের তামাক উৎপাদনকারী ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম। প্রথম অবস্থানে আছে চীন। বাংলাদেশে তামাক উৎপাদনকারী জেলার মধ্যে প্রথম হচ্ছে কুষ্টিয়া। তামাক চাষের নিবিরতা ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৪৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২১৩ শতাংশ হয়েছে।

এতে আরও দেখানো হয়, সামগ্রিকভাবে তামাক চাষের চেয়ে সবজি চাষ লাভজনক। তামাক উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করা গেলে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভেঙে কৃষি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা সম্ভব।