করেছেন এইচএসসি পাস কিন্তু রোগী দেখেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে

নাম তানভীর আহমেদ সরকার। এসএসসি পাস করেছেন ২০০১ সালে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এইচএসসি পাস করেছেন ২০০৯ সালে। শিক্ষাজীবন বলতে এতটুকুই তার সম্বল। কিন্তু তিনি চতুর। তাই এইচএসসি পাস করেও ব্যবস্থাপত্র দিয়ে আসছিলেন একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে। রোগীর সঙ্গে ভাবও নেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের। কিন্তু তার এ ভাব ধরে ফেলেছে র‌্যাব।

ঘটনাটি সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ের রহিম মার্কেট এলাকায় হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের। তানভীর আহমেদ সরকার (৩৪) নামে স্বঘোষিত বিশেষজ্ঞ এই ডাক্তার এবং তার সহযোগী ক্লিনিকের ম্যানেজার আবুল বাশারকে (৩২) আটক করেছে র‌্যাব।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে র‌্যাব ফোর্সেস সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সরোয়ার আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদেরকে যথাক্রমে দুই বছর ও এক বছরের বিনাশ্রম কারদণ্ড দেন। এ সময় কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, ভুয়া ডাক্তার মো. তানভীর আহমেদ সরকারের বাবা আব্দুল মতিন চৌধুরী। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার শিবনগর এলাকায়।

সে দীর্ঘদিন নিজেকে একজন বড় মাপের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এই হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়মিত রোগী দেখে আসছে। সে নিজেকে ডা. মো. তানভীর আহমেদ সরকার, সনোলজিস্ট এবং বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে উল্লেখ করেছিল।

এছাড়াও বিভিন্ন রোগীর প্রেসক্রিপসনে ভিন্ন ভিন্ন নামে সে নিজেই স্বাক্ষর করত। এমনকি ভর্তি হওয়া রোগীদের ফাইলে প্রেসক্রিপশনে সে নিজেই ভিন্ন ভিন্ন স্বাক্ষর করত। তার এ সকল কাজে হাসপাতালের মালিক জাহাঙ্গীর ও ম্যানেজার আবুল বাশার নিয়মিত সহায়তা করত। এছাড়াও বিভিন্ন ডাক্তারের নাম ওই তাদের অজান্তে ব্যবহার করে করা হতো।

র‌্যাবের দলটি নিবন্ধনকৃত চিকিৎসক হিসেবে তার কাছে সনদ দেখতে চাইলে তারা কোনো সনদ দেখাতে পারেনি। অভিযান চালানোর সময় হাসপাতালের ওটিতে সরকারি (বিক্রয়যোগ্য নহে) ওষুধ পাওয়া যায় এবং হাসপাতালে কোনো এমবিবিএস ডাক্তারের উপস্থিতি ছিল না।