মমতা বললেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ

ভারতের চলতি লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ পশ্চিমবাংলায় এসে যতোই হিন্দুত্বের তাস খেলছেন, এর মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতিয়ার ধর্ম নিরপেক্ষতা। তিনি যে নিজেকে ভারতের মাটিতে সর্বধর্ম সমন্বয়ের স্তম্ভ হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছেন, তার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন বারংবার।

আজ মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের লাল মাটির দেশ বাঁকুড়ার রানীবাঁধে এক জনসভায় মমতা হিন্দু ধর্মের স্তোত্র পাঠের পাশাপাশি মুসলিম ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলে ওঠেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)। একইসঙ্গে তিনি খ্রিস্টান ধর্মের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

এদিন মমতা সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি হিন্দু ধর্মকে শ্রদ্ধা করি তবে আমি মোদি-শাহদের হিন্দুত্বকে মানি না। তাদের কাছ থেকে হিন্দু ধর্ম শিখতে চাই না।’

সম্প্রতি মমতার গাড়িবহরের সামনে কয়েকজন যুবক ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়ায় বেজায় রেগে যান মমতা। যা নিয়ে জয় শ্রীরাম রাজনীতিতে পশ্চিমবঙ্গ এখন সরগরম। বিজেপির নেতারা বারংবার মমতাকে ‘জয় শ্রীরামের’ খোঁচা মেরে হিন্দুত্বকে আঁকড়ে ধরে তীব্র আক্রমণ শানাচ্ছেন। আর বিজেপি নেতাদের সেই আক্রমণের কাছে মাথা না নুইয়ে মমতা প্রতিটি জনসভায়ই সর্বধর্মের ওপর জোর দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন।

আজ বাঁকুড়ার সভা থেকে মোদি ও অমিত শাহদের কটাক্ষ করে জানিয়ে দেন মমতা, ‘তোমরা যাকে মানবে, আমি তাকে মানব না। বিজেপির স্লোগান (জয় শ্রীরাম) আমি মরে গেলেও আমার মুখ থেকে বের হবে না।’

এদিন মমতা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের কটাক্ষ করে বলেন, আগে এই রাজ্যের বিজেপি নেতারা একটা বিড়ি ধরিয়ে তিনবার ফুঁকতো, এখন তারা টাকার কুমির বনে গেছেন। এবারের নির্বাচনে মানুষ যাতে বিজেপিকে ভোট না দেয় তার আবেদন জানিয়ে মমতা বলেন, সারা বছর আমরাই আপনাদের পাশে থাকি, আর ভোট এলেই ওরা (বিজেপি) দিল্লি থেকে উড়ে আসে। তাই ওদের একটি ভোটও নয়।