নির্বাচন

দলীয় প্রার্থী নেই বিএনপির! কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি?

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপক তৎপরতায় নির্বাচনী আমেজে ভারী এখন দুই উপজেলার আকাশ-বাতাস। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেকেই কেন্দ্রের সিনিয়র নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলে জানা গেছে। সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার ও লিফলেট দিয়ে জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে ব্যস্ত সময় পার করেছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা মনোনয়নও কিনেছেন।

ঐক্যফ্রন্ট থেকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনায় শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি তা নিয়ে তা নিয়ে আলোচনা করেই এখন সময় পারছেন বেশিরভাগ মানুষ। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয় বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পুনরায় মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশা করছেন। ফের মনোনয়ন পেতে তিনি, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও প্রয়াত পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। বিভিন্ন জায়গায় করেছেন জনসভা ও মোটর শোভাযাত্রা।

তার পক্ষে তার নেতা-কর্মীরা নিয়মিত দলীয় কর্মসূচির বাইরেও সার্বক্ষণিক তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এখনও তিনি এবং তার কর্মী সমর্থকরা তার মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশা করছেন। অপরদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা পর্যবেক্ষক সমন্বয় উপ-কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ মিটিং মিছিল পথ সভা গণসংযোগ করে ইতিমধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নজর কেড়েছেন। অনেক দিন ধরেই তিনি সরকারের উন্নয়ন প্রচারসহ দলীয় নেতা-কর্মী ও তৃণমূলের জনসাধারণের সাথে সার্বক্ষণিক সম্পর্ক ও অবস্থান করে চলেছেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যপ্রযুক্তি হওয়ায় যুব সমাজের কাছে রয়েছে তার আলাদা ইমেজ। গত উপ-নির্বাচনের সময় তিনি একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী ছিলেন। পরে অনুপম শাহজাহান জয়কে মনোয়ন দিলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশমত তিনি তার পক্ষে কাজ করেন। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আস্থা রেখে ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাসাইল-সখীপুরকে নতুন করে সাজাতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি, এ আসনটিতে আমি মনোনীত হলে জয় সুনিশ্চিত হবে এবং বাসাইল-সখীপুরকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবো।

আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (জোয়াহের), তিনি আগেও মনোনয়ন চেয়েছিলেন এবারও মনোনয়নের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান ও গণসংযোগ করেছেন। সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী করতে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন দুই উপজেলার ইউপি চেয়াম্যানদের সাথে।

এছাড়া এ আসনে আওয়ামী লীগের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন- সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত শিকদার, জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও

সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যক্ষ সাঈদ আজাদ, বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সরকার আরিফুজ্জামান ফারুক, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুল হক তালুকদার সহ আরও ৩ জন মনোনয়ন কিনেছেন। আওয়ামী লীগের ব্যানারে মনোনয়নের প্রত্যাশায় তারাও বিভিন্নভাবে এলাকায় গণসংযোগ ও কেন্দ্রে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আযম খান। তার নির্বাচনী এলাকায় সাংঠনিক দক্ষতার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে সখীপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যশী শেখ মোহাম্মদ হাবীবের সাথে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিরোধ। কোন্দলে জর্জড়িত বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করা নিয়ে শঙ্কিত কর্মীরা। এতে বিএনপি সঠিক নেতৃত্বহীনতার কারণে দলের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই দুর্বল রয়েছে।

আবার কাদের সিদ্দিকীর ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ায় শেষ পযর্ন্ত এ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থীর সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। তাই আওয়ামী লীগের ভোট হবে ঐক্যফ্রন্টের সাথে। তবে শেষ পযর্ন্ত দলের সব প্রার্থী ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটিতে আওয়ামী লীগকে হারানো হবে অনেকটা অসাধ্য সাধণ করার মতো।

এ আসনে বিএনপির অন্য প্রার্থীরা হলেন- বাসাইল উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হাফেজ মো: শহিদুল ইসলাম এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম ওবায়দুল হক নাসির ও কৃষিবিদ শফি শাওন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বরাবরের মতো দলের যুগ্ম মহাসচিব কাজী আশরাফ সিদ্দিকী রয়েছে। তবে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে শেষ পর্যন্ত তার ও অন্য কোন প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই বললেই চলে।

এছাড়াও জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির অতিরিক্ত মহাসচিব ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সাদেক সিদ্দিকী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সখীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ার চেয়ারম্যান এস এম শওকত আলী মাস্টার ও ডা. লিয়াকত হোসেন। এ আসনটির সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে এলাকার রাস্তা-ঘাট, স্কুল কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদক নির্মুল, অনিয়ম-দুর্নীতি দূরীকরণসহ এলাকার সর্বোপরি উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখবে তারা এমন প্রার্থীকেই ভোট দিবেন।

শেয়ার করুন: