দুপুর পৌনে ১টা। রাজধানীর সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া এভিনিউয়ের যাচ্ছিল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের গাড়িটি। হঠাৎ গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন মন্ত্রী। হাঁক ছেড়ে ডাকলেন এক মোটরসাইকেল চালককে।
বললেন, ‘এই হুজুর আপনাকে তো দেখে ঈমান আমনেওয়ালা মনে হচ্ছে। মাথায় টুপিও দেখতেছি, কিন্তু আপনি মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন...মাথায় হেলমেট পরেননি কেন?
রাস্তায় হঠাৎ মন্ত্রীর প্রশ্নে যেন দিশেহারা মধ্যবয়সী মোটরসাইকেল চালক। উত্তরে বলেন, ‘স্যার হেলমেট আছে তো!’
এমন উত্তরে হেসে ফেলেন মন্ত্রী। বলেন, আপনি মরলে আমার কি হবে! ক্ষতি যা হবার তো আপনার পরিবারের। হেলমেট আছে কিন্তু মাথায় দিবেন না এটা ঠিক নয়। মাথায় দিন। নিরাপদে চলাচল করুন।
এভাবেই মানিকমিয়া এভিনিউতে হেলমেটবিহীন চালকদের আটকে প্রশ্ন করেন ও বিআরটিএ কর্তৃক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
অভিযানকালে মন্ত্রী একাধিক কাভার্ডভ্যান, পিক্যাপ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, বাস ও মোটরসাইকেল আরোহীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।
অভিযানকালে আরেক মোটরসাইকেল আটকানোর পর দেখেন দুই আরোহীর কারো মাথায় হেলমেট নেই। জিজ্ঞেস করলে জানতে পারেন রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয়।
পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, রমজান মাসে মানুষ যাতে আইন মানে সেজন্য অভিযান চলছে। অভিযানে নেমে দেখছি, নিয়ম লঙ্ঘন করা বেড়েছে বলেই মনে হচ্ছে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক দল ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাই বেশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করছে।
মোটরসাইকেল এখন সারাদেশে মূর্তিমান আতঙ্ক উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ দুইজন উঠতে পারার নিয়ম। দ্বিতীয়জনকেও হেলমেট পড়ার নিয়ম। কিন্তু অভিযানে দেখছি, কোনো কোনো চালকের হেলমেট থাকলেও দ্বিতীয় যাত্রীর হেলমেট নেই।
মোটরসাইকেলে তৃতীয় যাত্রী ওঠার কোনো সুযোগই নেই আইনে। অথচ সেটাও দেখতে হচ্ছে রাস্তায় এসে। আর এসব করছে বেশি রাজনৈতিক কর্মীরা। দুঃখের বিষয় সাধারণ মানুষ কিন্তু ট্রাফিক আইন মোটামুটি মেনে চলে।
কিন্তু যখনই ধরি, তিনজন উঠছে, কারো হেলমেট নেই, শুনি পলিটিক্যাল। তারা রাজনৈতিক কর্মী। অথচ সাধারণর এই ধৃষ্টতা কমই দেখান। আইনের প্রতি অন্তত ভয়ে শ্রদ্ধা দেখান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আসল বিষয় হচ্ছে, মন-মানসিকতার পরিবর্তন না হলে, ডিসিপ্লিন্ড আচরণ, বিধি লঙ্ঘন, আইন-ভঙ্গ, নিয়ম না মানা, এসব বিষয় বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিআরটিএ অভিযান চালাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আজ দুপুর পর্যন্ত ৪৮টি মামলা হয়েছে। ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে বিআরটিএ কর্তৃক পরিচালিত দুটি ভ্রাম্যমান আদালত। এর মধ্যে ২১টি মামলা মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে।
আর ১ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ৩১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ৬৪ চালককে কারাদণ্ড, ২৭ দালালকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৩টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৫২টি জব্দ করা হয়েছে।