ভুতুড়ে রাজধানী সর্বত্র হাহাকার

স্টাফ রিপোর্টার: ভুতুড়ে রাজধানী, চারদিকে হাহাকার। রাজধানী ঢাকার এমন পরিস্থিতি আগে কেউ দেখেনি। পুরো ঢাকা এক ভুতুড়ে নগরী। রাস্তায় মানুষজন চলাফেরা করলেও অন্ধকারে কেউ কাউকে দেখছে না। সবার ভেতরে অজানা এক আতঙ্ক। হঠাৎ যেন বদলে গেছে রাজধানীর চিরাচরিত রূপ। যদিও পুরো দেশের চিত্রই এমন। সারা দেশে একযোগে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। মাঝ রাতে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত কোথাও বিদ্যুতের অস্তিত্ব দেখা যায়নি।

বিদ্যুৎ বির্পযয়ের কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দুপুরের পরপরই ছুটি ঘোষণা করে। কর্মব্যস্ত শহর ঢাকা পাল্টে যায়। সন্ধ্যার পর রাজপথে মানুষের আনাগোনা কমে যায়। নেহাত না পেরে যাদের বাইরে থাকতে হয়েছে তারা ছাড়া সাধারণ মানুষদের খুব একটা দেখা যায়নি সড়ক ও যানবাহনগুলোতে। সন্ধ্যার পর আর জমে ওঠেনি রাজধানীর বিপণিবিতান অথবা সন্ধ্যার পর ঘরে ফেরা মানুষের আড্ডা। অন্ধকারে গলিঘুপচি হয়ে ওঠে আরো অনিরাপদ। রিকশায় রিকশায় টক্কর লেগেছে প্রায় প্রতিটি গলিতেই। ঘটেও গেছে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো ছিনতাইয়ের ঘটনা।

পুরানা পল্টনের লিয়াকত ক্ষোভের সঙ্গে বলছিলেন, ঢাকায় থাকি ৫০ বছরের বেশি, এমন ভুতুড়ে নগরী আর কখনও দেখিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে না পারায় তিনি সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে, মোমবাতি আর ম্যাচের জন্য সন্ধ্যার পর থেকে দোকানে দোকানে ভিড় লেগে যায়। ১০ টাকার মোমবাতি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। তবুও পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া পানির জন্যও হাহাকার লেগেছে নগরীজুড়ে। হাহাকার দেখা গেছে রাজধানীসহ এর আশপাশের তেলের পাম্পেও।

দুপুরের পর পরই পাম্পে তেল নেই। অনেকেই তেল রেখে দিয়ে বেশি দামে বিক্রি করেছে। তেল বা সিএনজি না থাকায় অনেক যানবাহন রাজপথেই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যাত্রীদের পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে হয়েছে।

তেল বা সিএনজিবাহী যানবাহন কমে যাওয়ায় রিকশার চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ। যেখানে ভাড়া ২০ টাকা সেখানে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় যেতে হয়েছে। আবার ভুতুড়ে পরিবেশ থাকায় অনেক এলাকায় রিকশাও যায়নি।